স্বপন বন্দে পায়

»চত।লী প্রকাশনী

গুরুপ্রসাদ চৌধুরী লেন, কলিকাতা-৭০***৬

101. 11000 138110170 31011080228. -/171917217671 172717)/010727/)16

আষাঢ় গরু পার্ণিমা--১৩৬১

প্রকাখক £

শ্রী আজত কুমার গুস্ত চৈতালী প্রকাশনী

ণনং গুরপ্রসাদ চৌধুরা লেন কাঁলকাতা---৭০০০০৬

প্রচ্ছদ অলংকরণ £ রাহূল মজ.মদার

মুদ্বুক £

শবর্শান্ত প্রেস

২৮/জ আঁবনাশ*ঘোষ লেন কাঁলকাতা--9০০9০০৬

পাঁরবেশক £ অন্রগ্গী প্রকাশনী ৩৬, কলেজ রো কাঁলকাতা--৭০০০০৯

প্রক্চাম্পক্কেন্ল ন্িজেদন্ন

কংপাবজ্ঞানের গল্প আজকাল সব বয়সী প্রা্ঠকেব কাছেই ডম্াপ্রির হয়েছে এমন কাহিন লিখে খুব অল্প সময়ের মধোই বাঙাল পাঠকের মনে স্থান করে নিতে পেরেছেন স্বপন বন্দোপাধ্যায় রই বিভিন্ন স্বাদের পাঁচটি বিখ্যাত কল্পবিজ্ঞান কাহিনী এই সংকলনে প্রকাশ করা হল গল্পগুলি হীতপবেইি বীজ পু পাঁন্ুকায় প্রকাশত

প্রসঙ্গত £ বঙান সানা প্রাতবণ। পারাস্থীতর মধো ছাপার কাজ চলায় অনেক যত সত্ববে্ড বেশ কিছ মুদ্রণ প্রনাদ থেকে গেল! এজনা আমর! ক্ষমাপ্রাথ্ পরবস্তধ সংস্করণে সেগখল অবশাই সংশোধিত হবে

এডি আছে

ডান্তার জীমৃত বাহনের বিত্ত জগং নেশা।২৭

স্যার সত্যপ্রকাশের সুদূর দর্শন ৪৪ বাত ঘরের আতঙ্ক1&৭

স্যার সত্যপ্রকাশ

বাদুড-মানুষের হানা'৬৬

[0] 70] 03170] 10

পরম পুজ্য

ম। বাবার করকমলে

এই লেহ্খন্েল্স অস্২)শ্য হই 2.

ড্রাগন পাহাড়ের রহসা তীয় বিশ্বের আভযান্া

1চ্কার চড় গিবভীষকা

তব্বতী গ্‌ম্ফার রহস্য

প্র বাঁজতি নাটক একাম্ক সংকলন )

৯গাওনর তত পপ

নিন

স-_

এস [ সমুদ্রের ধারে অশ্চর্য দৃশ্য ]

এক! এক বসে হৃর্যান্ত দেখছিলাম সেই সময়ই দেখলাম লোকটাকে পশ্চিম আকশে লাল আবীর ছড়িয়ে স্ূর্যটা যখন টুপ করে ডুবে গেল_-লোকটার প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি আকৃষ্ট হল আমার কালে৷ ছিপছিপে লম্বা চেহারা, সমুদ্রের ধারে কি যেন খুজে বেড়াচ্ছে প্রথমটা মনে করলাম স্থানীয় কোন গরীব মানুষ ঝিনুক কুড়িয়ে বেড়াচ্ছে _-এখানকার বাজারে বেচে আমাদের মত ট্ররিষ্টদের কাছ থেকে ছু'পয়সা কামাবে বলে। কিন্তু তাহলে ওর চালচলন অমন অদ্ভুত কেন? কৌতৃহলী দৃষ্টিতে কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বুঝলাম, ঝিনুক কুড়োনো ওর উদ্দেশ্য নয়__সমুক্রের ধারে বালির উপর যে গর্ভগুলো রয়েছে, তার প্রতিটি গর্ভের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে কি যেন খুঁজে বেড়াচ্ছে" ওর মুখচোখের চাউনি, চলা-ফেরার ভঙ্গিও কেমন যেন-_ঠিক মানুষের মত ভাবা যায় না।

হঠাৎ বুঝতে পারলাম লোকটার মতলব একট! গর্তের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে বড় সড় একটা জ্যান্ত কাকড়া বার করল-_এবং কী আশ্চর্য ! তিলমাত্র দ্বিধা না করে জ্যান্ত কাকড়াটার ধাড়াঞচলো! মট মট করে

রি

ভেঙে মুখে পুরে দিল লোকট1। কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যেই আস্ত কাকড়াটা ওর পেটে চলে গেল এবং তারপর একট। তৃপ্তির উদগার তুলে কোনদিকে দৃকপাত না করে এগিয়ে চলল আগের মতই বালির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রেখে

বিস্ষারিত, দৃষ্টি মেলে দেখছিলাম দৃশ্যটা !

হঠাৎ দূর থেকে একট! ডাক শুনলাম, আয়, --আয় জ্যাকি।

তাকিয়ে দেখি__দূর থেকে এক থুর থুরে বুড়ো লোকটার দিকে এগিয়ে আসছে তার মাথায় ধবধবে সাদ! চুল" সাদ! দাড়ি প্রায় বুক ছু'য়েছেঃপরনে একট] সেকেলে প্যাানের ঝলমলে তালি দেওয়! প্যান্ট, সার্ট, পায়ে চটি। বৃদ্ধের এক হাতে একটা কুকুর বীধা! চেন, অন্য হাতে চাবুক

বৃদ্ধকে দেখেই লোকটা সচকিত হল, তারপর ছুর্বোদ্ধ কি একটা উচ্চারণ করে ছুটে গেল বৃদ্ধের দিকে বুদ্ধ ওর মাথায় পিঠে হাত বুলিয়ে কি বলছেন দূর থেকে শোন গেল না, কিন্তু ব্যপারট। দেখলাম কোন পোষ! প্রানীকে আদর করার মতই |

তারপর ওরা ছুজনে ধীরে ধীরে দৃষ্টির সীমান। ছাড়িয়ে চলে গেল।

দই [ হিমাংশুর হোটেল ]

কাহিনীটা আচমকা শুরু করে ফেলেছি গোড়ার কথাটা একটু বলে নেওয়। দরকার

ব্যাপারটা আর কিছু নয়, আমার বন্ধু হিমাংশু কয়েক বছর হল উড়িষ্য। রাজ্যের সমুদ্র তীরধ্তী গোপালপুরে একটা! হোটেল খুলে বসেছে। পুরী থেকে চল্লিশ মাইল দুরে সমুদ্র ধারের এই জায়গাটা বেশ মনোরম এবং স্বাস্থ্যকর টুরিস্ট সেপ্টার হিমেবে খুব বেশীদিন গড়ে ওঠে নি--তাই জনকোলাহল আর ভিড় এখনও এখানকার প্রকৃতির শাস্তি বিশেষ নষ্ট করতে পারেনি বেড়ানোর পক্ষে এমন

|

জায়গাই আমার পছন্দ। হিমাংশু বেশ কয়েকবারই চিঠি লিখে আমায় এখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছে কিন্তু কেরানী জীবনের নান। ঝপ্তাটের মধ্যে আসা আর হয়ে উঠছিল না এবার বলতে কি এক রকম তেড়ে ফুড়েই চলে এসেছি

সমুদ্রের প্রায় ধাবেই হিমাংশুর হোটেল “সাগর দর্শন” এসেছি সবেমাত্র গতকাল আমি যে সত্যিই এভাবে শেষ পর্যন্ত আসব, হিমাংশ বোধ হয় ভাবতে পারে নি--ওর খাতির যত্বের বহরটা দেখে তাই মনে হল

স্কুল জীবনের সহপাঠী হিমাংশ এককালে আমার সব থেকে দ্বনিষ্ট বন্ধু ছিল।

হিমাংশুকে সেই রাজ্রেই খাবার টেবিলে বসে সন্ধ্যেবেলা সমুদের ধারে দেখ! ঘটনাটার কথা বললাম

হিমাংশু দেখলাম অবাক না হয়ে একটু গম্ভীর হয়ে গেল। একটু চুপ করে থেকে বলল, তুই নিশ্য়ই ডাক্তার জীমুত বাহন আর ওর সঙ্গী জ্যাকিকে দেখেছিস |

বিষয়টা এতে পরিষ্কার হবার কথা নয়। বললাম, ডাক্তার জীমৃত বাহন কে?

হিমাংশু হাই তুলে বলল, আজ অনেক রাত হল তোর নিশ্চয়ই ঘুম পেয়েছে বরং কাল সকাল বেলা ডাক্তার জীমূত বাহনের কথা তোকে শোনাব ভারি ইন্টারেস্টিং

বুঝলাম, বন্ধু এখন মুখ খুলতে চাফনা। ট্ররিস্ট সীজন শুরু ' হয়েছে সারা দ্রিনের পরিশ্রমে ওর ক্লান্ত থাকাই স্বাভাবিক তাই আর কিছু না বলে সে রাতে খাওয়। দাও] সেরে বিছানায় : লম্বা হলাম। খাওয়ার ব্যবস্থাট হিমাশু ভালই করেছিল সরু বাসমতী চালের ভাত, চিংড়ি মাছের মালাই কারী আর পাতের শেষে দই।

বিছানায় শুয়ে ঘুমের অতলে তলিয়ে যেতে বেশী দেরী হল না।

ভিন্ন [ ডাক্তার জীমৃত বাহন ]

পরদিন ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে হিমাংশুর কাছ থেকে ডাক্তার জীমৃত বাহনের কথা শুনলাম। ভদ্রলোক নাকি প্রথম জীবনে একজন নাম করা প্রাণীতত্ববিদ হিসেবে খ্যাত ছিলেন

তারপর সরকারের সঙ্গে কোন ব্যাপারে প্রচণ্ড মতবিরোধ হয় সরকারের তরফ থেকে ওর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন ওর কোন হদিস পাওয়া যায় নি। গত কয়েক বছর হল এই গোপাল পুরের কাছাকাছি এক নির্জন জায়গায় উনি একটা আসাইলাম খুলেছেন।

আযাসাইলাম, অর্থাৎ পাগল! গারদ কিন্তু প্রাণীতত্ববিদ্ধ থেকে কেউ পাগলের ডাক্তার হয়েছে বলে তে! আজ পর্যস্ত শুনি নি ।_ আমি না! বলে পারি না।

এটা আরে! অনেকেই মনে করে। কিন্তু ডাক্তার জীমূত বাহনের যোগ্যতা সম্পর্কে যাবৎ কেউ প্রশ্ন তুলতে সাহস পায়নি প্রচণ্ড বুদ্ধিমান এবং ধী-শক্তি সম্পন্ন মানুষ উনি !_ _হিমাংশু বলে।

ওর আসাইলামে রুগীর সংখ্যা কত? _আমি জিজ্ঞেস করলাম

সেটাই তো ভারি আশ্চর্য কয়েকটা অজ্ঞাত কুলশীল হাবাগোবা পাগল ছাড়া কোন জানা শোন! কাউকে সেখানে ভঙ্তি হতে দেখ! যায় নি। এমন কি ওখানকার ডাক্তার বলতেও আর কেউ আছে বলে জান! যায় নি।

ভারি অদ্ভুত তো! ! বিষয়টি সম্পর্কে আমার কৌতৃহল উত্তরোত্তর বেড়েই চলছিল।

কোনদিন কিছু প্রমানিত না হলেও অনেকেরই ধারণা, ওই আসাইলাম চালানো নাকি ভাক্তারের আসল কাজ নয়। ওর আড়ালে অন্য কোন গভীর উদ্দেশ্ট চরিতার্থ করে চলেছেন উনি

-_হিমাংঁ বেশ রহস্যময় ভাবে কথাগুলো উচ্চারণ করল।

উদ্দেশ্যটা কি হতে পারে, কখনও ভেবেছিস ?

না! তার কারণ প্রথমতঃ ওসব ব্যাপারে মাথা ঘামাবার সময় আমার নেই। দ্বিতীয়তঃ ডাক্তার কোন অজানা লোককে তার আযসাইলামের ধারেও ঘে'ষতে দেয় না।

আশ্চর্য ! --সেই মুহূর্তে এরবেশী কোন মন্তব্য যোগায় ন। আমার মুখে

চাল্ল [আমার ডাইরীর পাতা থেকে ]

৪ঠা মার্চ, সকালবেলা__

ডাক্তার জীমৃতবাহনের সঙ্গে আবার দেখা হল

সত্যি বলতে কি, প্রথম দিন সন্ধ্যেবেল! সমুদ্রের ধারে ডাক্তারকে দেখে এবং হিমাংশুর মুখে তার রহস্যজনক কীতিকলাপের কথা শোনার পর থেকেই মনটা ওই আশ্চর্ধ মানুষটার দ্রিকে বারবার ছুটে যাচ্ছিল বোধ হয় এটাই ম্বাভাবিক।

কিন্ত হিমাংশুর কাছে ডাক্তারের জীবনকথা শোনার পর, দিন ছুয়েক সন্ধ্যেবেলা সমুদ্রের ধারে অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করেও ডাক্তার জীমৃত বাহন কিংবা তার অন্ভুত সঙ্গী জ্যাকির দেখ! মিলল না।

দেখ। মিলল দিন তিনেক বাদে সকালবেলা গোপালপুর বাজারের মধ্যে প্রথমদিন যখন দেখলাম, ভাক্তার জীমৃতবাহন কলা ওলার কাছ থেকে কলার কাদি কিনছেন। সঙ্গে একট! লোক, চাকর বলেই মনে হল--কিস্ত সমুদ্রের ধারে বাকে দেখেছিলাম, সে নয়। দূর থেকে ডাক্তারকে দেখেই আমি থমকে দাড়িয়ে ছিলাম দেখলাম, ডাক্তার কলা কিনে গাড়িতে তুলছেন বাজারের ঠিক

৯১

পাশেই ডাক্তারের একটা পুরোনোম্যান্বাসাভার দাড়িয়েছিল গাড়ির দিকে যাবার পথে এক ছড়া কলা সঙ্গের লোকটিকে দিলেন ডাক্তার, আর অমনি লোকটা কলার খোস। ছাড়িয়ে সেগুলো! গবগব করে খেতে শুরু করল। কোন মানুষকে অমনভাবে কখনও কলা খেতে আমি দেখিনি-_ এমনকি কোন পাগলকেও না ডাক্তার কিন্ত গাডিতে ওঠার আগে আমায় ঠিক দেখতে পেয়েছেন। এক ঝলক দৃষ্টি মেলে তাকালেন এই বয়সেও কী অদ্ভুত ছ্যতিময় ওর চোখের দৃষ্টি একবার মনে হল, ওছুটো চোখ আমার দিকে তাকিয়ে একবার নীরবে হেসে উঠল ব্যাস, ওইটুকুই ! আ্যান্াসাডার হুস করে বেরিয়ে গেল পাশ দিয়ে

৭ই মার্চ : দুপুর তিনটে _

স্বযোগট! যে এমন অভাবিত ভাবে আসবে, আগে ধারণা করতে পারিনি। ডাক্তার আমায় তার আযাসাইলামে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন

ডাক্তার জীমৃতবাহনের সঙ্গে কথ! হয়েছে আজই সকালবেলা প্রায়ই বাজারে আসাটা ডাক্তারের বোধহয় এক ধরনের অভ্যাস কে জানে, আসাইলামের পুরো বাজারটাই উনি এক! সারেন কিনা নাহলে রোজ এত কাচ বাজার একপঙ্গে করতে হয় কেন?

পরপর হছৃ্দ্িন দেখলাম ডাক্তার গাড়ি নিয়ে গোপালপুর বাজারে এসেছেন সঙ্গে সেইঅদ্ভুত চাকরটখ! ওর চালচলন, কল! খাওয়ার ভঙ্গি দেখে প্রথম দিনই আশ্চর্য হয়ে ছিলাম। গতকাল ডাক্তারকে ওর নাম ধরে ডাকতে শুনলাম | অদ্ভুত নাম__শিল্পু! লোকটাকে এদেশীয় মনে হয়' সমুদ্রের ধারের সেই চাকরটার মতই--তবে ওদের এমন স্থষ্টিছাড়া নাম কেন ?

পরিচয় হদ আজই সকালে আজও সঙ্গে অন্যদিনের মত সেই অন্ভূত চাকর শিম্পু ছিল।

১৭২

বাজার শেষ করে শিম্পুকে প্রথমে গাড়িতে তুলে দ্রিয়ে উনি উঠতে গিয়েও আজ থমকে দাড়ালেন আমার দিকে তাকিয়ে হাসলেন ডাক্তার। সাদা গোঁফ দাড়ির জঙ্গলের মধ্যে থেকে যেন একরাশ মুক্তো ঝকমক করে উঠল। আমায় হাত নেড়ে ইশারায় কাছে ডাকলেন। বেশ অবাক হয়েই এগিয়ে গেলাম। উনি আমার কাধে হাতটা রাখতেই গাট1 কেমন যেন শিএশিব করে উঠল কোন সম্মোহনী শক্তি আছে নাকি মানুষটার মধ্যে ?

জিজ্ঞেস করলেন, নাম কি?

নিজের নাম বললাম

কোথায় থাকা হয়?

থাকি কোলকাতায় এবং এখানে যে কয়েক দিনের জন্যে বন্ধুর হোটেলে বেড়াতে এসেছি তাও বললাম

ডাক্তার জীমূৃতবাহন হাসলেন। আবার সেই ঝকমকে মুক্োর মেলা

আমার সম্পর্কে খুব কৌতুহল, তাই না?

শুনে অবাক হলাম মানুষটা হাত গুনতেও জানে নাকি ?

আস্থন না, আজ সন্ধ্যেবেলা আমার আযসাইলামে

আপনার আযাসাইলামে ! আমায় যেতে বলছেন? কথা! বিশ্যয়ের ঘোরে আচমকাই বেরিয়ে গেল মুখ থেকে

বুঝতে পেরেছি, এর মধ্যেই কেউ মাথার মধ্যে আমার সম্পর্কে অনেক আজগুবি কথা ঢুকিয়ে দিয়েছে, ভাক্তার জীমৃতবাহন আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন” আজেবাজে লোককে সত্যিই আমি মামার আযাসাইলামে ঢুকতে দিয়ে শাস্তি নষ্ট করিনা কিন্ত আমি মানুষ চিনি। _-আবার সেই আশ্চর্য হাসিটা হেসে বললেন, আজ সন্ধ্যেবেল। আপনার অপেক্ষাতেই থাকব

বেশ, যাব ।-_-অনেকটা মন্ত্ুগ্ধের মত কথাট! উচ্চারণ করি

গাড়িতে উঠে স্টার্ট দেবার মুখে আরু একবার আমার দিকে

১৩

তাকালেন ডাঃ জীমূতবাহন ইশারায় আরো কাছে ডেকে চুপি চুপি বললেন, ব্যাপারট! কিন্তু গোপন রাখবেন আমাদের ছজনের স্বার্থে, কেমন? একইভাবে মন্ত্রমু্ধের মত আমি সম্মতি সৃচক ঘাড় নাড়লাম।

গাড়িটা ধোয়া ছেড়ে হুস করে চলে গেল।

এখন ছুপুর তিনটে বেজে গেছে, আর কিছুক্ষনের মধ্যেই আমাকে বেরিয়ে পড়তে হবে

কি এমন রহস্য আছে ওই আযাসাইলামে, কোন বিচিত্র জগতের বাসিন্দা উনি তা আমায় আবিষ্কার করতেই হবে। হিমাংশুকে বললে নিশ্চয়ই আমাকে যেতে দেবে ন1। কিন্তু ডাক্তার জীমূতবাহনকে কথা দিয়েছি আর, নিজেকে রক্ষা করার মত আত্মবিশ্বাস আমার আছে

অতএব যাব--যেতে আমায় হবেই !

পাচ ( কৌতুহল বাধাহীন )

হোটেল “সাগর দর্শন” থেকে ভাক্তার জীমুতবাহনের আসা ইলাম বেশ কিছুটা প্থ। পথের নির্দেশ জানাই ছিল-_বাজার থেকে সোজা নাক বরাবর রাস্ত। চলতে বিশেষ কষ্ট হল না। পথেই সন্ধ্যে 'গ্ড়িয়ে এল আ্যাসাইলামের কাছাকাছি এসে যখন পৌছিলাম, চারদিকট অদ্ভুত নিরিবিলি হয়ে গেছে একেই জায়গাটায় লোকবসতি খুবই কম, স্থানীয় লোকজন বলতে কিছু জেলে এবং আদিবাসী জম্প্রদায়ের মানুষ, তার উপর এদ্িকটা কেউ বড় একটা আসেনা। বেশ জংলা জংলা ভাব।

কিছু দূর থেকেই ডাক্তারের আ'সাইলাম দেখতে পেলাম, একতলা ধুর রঙের বাড়িটা, অনেকখানি জায়গার ওপর ভেতরে বেশ কয়েকটা ঘর আছে মনে হল সামনে বাগান, পাচিল দিয়ে ঘেরা

১৪

বাগানের সামনে লোহার গেট ডাক্তার জীমৃতবাহন বোধ হয় আমার অপেক্ষাতেই গেটের কাছে দাড়িয়ে ছিলেন

কাছাকাছি এগিয়ে যেতেই ঝকমকে দীত বের করে হেসে বৃদ্ধ আমায় আপ্যায়ন করলেন” _আন্থন অনিমেষবাবু, জানতাম আপনাকে এখানে আসতেই হবে

কথাটা ঝট করে কানে বাজল। কিন্ত উনি ততক্ষণে গেট খুলে ভেতরে ঢুকে গেছেন। অগত্যা আমিও অনুসরণ করলাম বাগানটাতে খুব চেনা জান! কয়েকটা মৌন্ুমী ফুলের গাছ ছাড়া আর কিছু পেলাম না। একটা ফেশাস ফেস শব্দ শুনে পাশের দিকে তাকিয়ে দেখি, খালি গায়ে খাকি হাফ-প্যাণ্ট পর একটা লোক ফুল গাছে জল দিচ্ছে কিন্ত মাঝে মাঝে নাক দিয়ে জন্তুর মত অমন ফোস ফৌস শব্দ করছে কেন? মুখ ফেরাতেই ডাক্তারের সঙ্গে চোখাচোখি হল। বললেন, আমার খুব বিশ্বস্ত চাকর হেগি। ওর কাজ-_আযাসাইলামের বাগান তদারক করা!

ভারি অদ্ভুত নাম আপনার লোকগুলোর ! _-কথাটা না বলে আর পারলাম না।

ডাক্তার আমার কথাটা প্রায় এডিয়ে গিয়েই বললেন, চলুন, আগে বরং বসে একটু চা-টা খেয়ে নেওয়া যাক।

কিন্ত এখানে জমিয়ে বসে চা খেতে আমি আসিনি আমার একমাত্র উদ্দেশ্ট গাক্তার জীমৃতবাহনের মূল রহস্য উদ্ধার করা এবং সেই সঙ্গে ওই সব আশ্চর্য নামের লোকগুলোর ব্যাপারটাও জানা তাই মুখে বললাম, চায়ের জন্য ব্যস্ত হবেন না। হোটেল থেকে চা-টা খেয়েই আমি বেরিয়েছি বরং সব দেখা শোন হয়ে যাবার পর--..

বুজেছি__* আরও কি বলতে গিয়েও হঠাৎ থমকে গেলেন ভাক্তার জীমৃতবাহন, তারপর আমার চোখের উপর নিজের সমুদ্র গভীর চোখ ছুটে! রেখে বললেন, আজ আপনার এখানে আসার কথা অন্য কেউ জানে?

না। __-কথাটা উচ্চারণ করলাম বেশ অন্বস্তি ভরেই, কারণ ডাক্তার তখনও নিজের চোখ টির সাহায্যে আমাকে যেন জরীপ করে চলেছেন।

প্রায় এক মিনিটকাল ওইভাবেই আমরা পরস্পরের দিকে তাকিয়ে রইলাম তারপর হেসে উঠলেন উনি গোঁফ দাড়ির জঙ্গলের মধ্যে থেকে ওঁর সাদা দাতগুলো ঝকমক করে উঠল বললেন, আমি জানতাম লোক চিনতে আমি ভুল করি না।

চুল্ [ রহস্য গভীর গোপন ]

কথ হচ্ছিল ডাক্তার জীমৃতবাহনের ল্যাবরেটরি ঘরের ভেতর বসে। একগাল হেসে ডাক্তার বললেন, অনিমেষ বাবু, আমার আযাসাইলাম ঘুরে আপনি মোটেই সন্তুষ্ট হননি বুঝতে পেরেছি, তবে ডাক্তার জীমৃত বাহনের প্রকৃত ক্ষমতার পরিচয় ওখানে নেই

একটু আগেই এই ল্যাবরেটরি ঘরে বসেই চা-পর্ব শেষ করেছি ডাক্তার জীমৃতবাহনের সঙ্গে গোপালপুর বাজারে দেখা সেই অদ্ভুত মানুষ শিম্পু এসে দিয়ে গেছে চা আর জাবুর পাপর! তারও আগে ম্যাসাইলামট1 ঘুরে দেখিয়েছেন ভাক্তার। সত্যি বলতে কি, দেখে হতাশই হয়েছি জন কয়েক মাত্র রুগী প্রত্যেকটা পাগলকে দেখেই মনে হল, দরিন্দ, ভবনুরে শ্রেণীর মানুষ তারা এবং ওদের পাগলামী বর্তমানে এমন পর্যায়ে এসে পৌছেছে যে উপযুক্ত চিকিৎসা সত্থেও ওর! কেউ কোনদিন নিরাময় হবে কিনা, তা রীতিমত সন্দেহের বিষয়

আসাইলাম দেখে অনিচ্ছা সত্বেও অবজ্ঞাম্থচক মন্তব্যটা মুখ ফসকে বেরিয়ে পড়েছিল £ এই আপনার বিখ্যাত আসাইলাম !

মুহুর্তেই ক্ষণিকের জন্যে ডাক্তারের চোখের দৃষ্টি যেন বদলে

গিয়েছিল তারপরই আগের মনত হেসে বললেন, নারকেলের ছোবড়। চিবিয়েই কি আর নার” *্লের স্বাদ বোবা যায় অনিমেষ বাবু? এবার আমার আসল *০বষণাগারে আপনাকে নিয়ে যাব

আসল গবেষণাগার ! একটু বিম্সিত হয়েই ভাক্তারের মুখের দিকে তাকিয়েছিলাম

আমি একজন প্রাণীতত্ববিদ, কেউ বলেনি আপনাকে ?

-__একটা রহস্তময় হাসি ছুড়ে দিয়ে ডাঃ জীমূতবাহন অন্দরের বন্ধ দরজা কলিং বেলটণ বাজিয়ে দিয়েছিলেন

দরজ। খুলে দেয় বেঁটে, পাকানো চেহারার একজন লোক, লোকটার গায়ের রং হলদেটে সম্ভবত কোন পাহাড়ী এলাকার অধিবাসী | চোখছুটে! হিংস্র শ্বাপদের মত শরীরে যথেষ্ট শক্তি রাখে দেখলেই বোঝা যায়।

উল, ইনি আমাদের অতিথি শিম্পুকে বল ল্যাবরেটরি ঘরে

আমাদের ছজনকে চা, পাপর ভাজ! দ্রিয়ে যেতে আর তুমি কাছাকাছি থেকো-_দরকার হলে ডাকব

এবার ডাক্তারের সঙ্গে ওঁর ল্যাবরেটরির দিকে এগিয়ে চললাম কী পরিষ্কার ঝকঝক করছে চারপাশটা, এতটুকু ধুলো কিংব। একটা অদংগতিও কোথাও চোখে পড়ল না।

তবে অসংগতি য। দেখছি, তা হল ডাক্তারের চাকবগুলোর চেহার। চালচলন আর তাদের নামগুলো জ্যাকি- শিল্পু, হেগি, উল-_-এসব নাম শুধু এদেশে কেন? অন্য কোন দেশের মানুষেরও হতে পারে বলে আমার জানা নেই।

প্রসঙ্গট1 তুলব মনে করছি, হঠাৎ আমরা ল্যাবরেটরির মধ্যে ঢুকে পড়লাম

ল্যাবরেটরি ঘরট। নিপুণ হাতে সাজান-গোছ?নো!। নানা ধরনের উন্নতমানের বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি তো আছেই, সেই সঙ্গে দেয়াল আলমারির তাকে পাশাপাশি সাজানো রয়েছে নানা আকারের সব

১৭

কাচের জার সেগুলোর এক একটার মধ্যে এক এক ধরনের জিনিস রয়েছে) কয়েকটার মধ্যে আছে মানুষ এবং পশু-শরীরের মধ্যেকার কিছু বিচ্ছিন্ন অংশ কলকাতার সওদাগরি অফিসের কেরানী আমি, এসব জটিল জিনিস চেনার সামর্থ আমার নেই তবে প্রতিটি জারেই ওই সব শারীরিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গুলো মনে হল কোন তরল কেমিক্যালের মধ্যে জিয়নো রয়েছে

আপনি কি জানেন অনিমেষবাবুঃ মানুষ অন্যান্য প্রাণীর থেকে যত উন্নতই হোক, এই জীব জগতে বেশ কিছু প্রাণী আছে যাদের অনেক কিছুই মানুষ এখনও পর্যন্ত আয়ত্ত করতে পারেনি

ডাক্তার জীমৃত বাহনের কথায় আমার এতক্ষণে চিন্তা! সুত্র ছিন্ন হ'ল। ডাক্তার বলে চলেছেন,--মানুষ কি কোনদিন পারবে কুকুরের ভান শক্তি, শিম্পাপ্তীর শারীরিক তৎপরতা কিংবা! ঈগল পাখির দৃষ্টিশক্তি অর্জন করতে ?

আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি ডাক্তার জীমুতবাহনের দিকে ! কি বলতে চান ডাক্তার ?

না, পারবে না। পেতে পারে না। এখানেই প্রকৃতি মানুষকে বঞ্চত করে ওই সব প্রাণীদের জিতিয়ে দিয়েছেন ভাক্তার নিজেই নিজের কথার জবাব দেন।

কিন্তু এসবের সঙ্গে আপনার গবেষনার সম্পর্ক কি 1--আমি আর না জিজ্জঞেসকরে পারি না।

সম্পর্ক পুরোটাই ডাক্তার কয়েক সেকেণড টুপ করে থেকে তারপর বললেন, আমার গবেষনার বিষয় বস্তু এটাই

আমি একট কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, তার আগেই খসখস শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখি, ডাক্তার জীমত বাহনের সেই চাকর শিম্পু ঘরে ঢুকছে এত কাছ থেকে এই প্রথম সরাসরি ওর মুখের দিকে তাকালাম তাকিয়েই ভীষণ ভাবে চমকে উঠলাম দৃষ্টি কোন মানুষের হতে পারে না। চেহারাটা! অবশ্যই মানুষের মত- কিন্ত

১৮

হাটার ভঙ্গি, মাঝে মাঝে গ! চুলকানো, দাত বার করা, চোখের বৃষ্টি আমায় একটা প্রাণীর কথাই মনে করিয়ে দেয়--কলকাতার আলিপুর চিড়িয়া খানায় বহুবার দেখ! শিম্পাণ্তীটা। আমি একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিলাম ওর দিকে কোনদিক দূকপাত না করে নীরবে সামনের টেবিলটা! থেকে আমাদের চায়ের কাপ ভিসগুলো তুলে নিয়ে বাইরে চলে গেল

ৃষ্টিটা এবার ডাক্তার জীমৃতবাহনের দিকে রেখে বললাম, _-আপনার এই চাকরটার নাম শিম্পু, তাই না?

ডাক্তার আমার প্রশ্ন শুনে সকৌতুকে হেসে মাথা! নাড়লেন।

আমি বুঝতে পেরেছি, শিম্পু আসলে শিম্পাঞ্জীর অপত্রংশ |

ত্নাভি [ ডাক্তারের গবেষন। ]

ডাক্তার জীমৃতবাহন অকপটে শোনালেন তার গবেষনার কথা

বিষয়টা যেমন অবিশ্বাস্য, তেমনি উদ্ভট !

এই জনবিরল অঞ্চলে ডাক্তারের আসাইলাম খোলার নাকি তুটে৷ উদ্দেশ্য প্রথমতঃ, একট পাগলা গারদ সাজিয়ে রেখে অন্যের দৃষ্টিকে তার আসল অভিসন্ধি থেকে সবিয়ে দেয়া এবং দ্বিতীয়ত, ওই আযাসাইলামের অজ্ভাত কুলশীল ভবঘুরে পাগলগচলোকে নিজের গবেষনার গিনিপিগ বানানে |

আমার দেখা জ্যাকি, শিম্পু, হেগিঃ উল এরা! আকৃতিতে মানুষ হলেও আসলে কেউই পুরোপুরি মানুষ নয়

আসাইলামের কিছু অ-নিরাময় যোগ্য সমাজ এবং সংসার পরিত্যক্ত পাগলের ওপর এক্স পেরিমেণ্ট করছেন ডাক্তার

বিশেষ প্রক্রিয়ায় শিয়াল, শিম্পাজী কিংবা নেকড়ের ব্রেন ট্রান্সপ্লান্ট করেছেন ওই মানুষগুলোর অকেজো মস্তিস্কের বদলে।

১৪)

এই সঙ্গে বিশেষ কিছু নার্ভসিস্টেম এবং গ্ল্যান্তেও কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট প্রয়োগ করেছেন। এর জন্য অবশ্যই দীর্ঘ এক্সপেরিমেন্টের যুগ পার হতে হয়েছে ডাক্তারকে |

এই জন্যই আমি গোপাল পুরে প্রথম সন্ধ্যেবেলা জ্যাকিকে ( জ্যাকল ) দেখেছিলাম সমুদ্রের ধারে গর্ত থেকে জ্যান্ত কাকড়া বার করে খেতে কিংবা ল্যাবরেটরিতে প্রবেশের মুখে দেখা ডাক্তারের চাকর উল এর ( উলফ )চোখ ছটোতে হিংস্র শ্বাপদের দৃষ্টি

কিন্তু একট মানুষকে জাস্তব প্রকৃতি দান করে কি উদ্দেশ্য সফল করতে চান আপনি ? _-সমন্ত ব্যাপারটাই আমার কাছে কেমন যেন অমানবিক আর অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হচ্ছিল।

খুব শাস্তভাবে হাসলেন ভাক্তার জীমৃতবাহন তারপর বললেন? মানুষ আপনি কাকে বলছেন অনিমেষবাবু? যে লোকগুলোকে নিয়ে আমি পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়েছি, সমাজ এবং পরিবারের কাছে তারা তো! বছ আগেই মৃত। তাদের যদি অন্যভাবে আমি সমাজের প্রয়োজনে লাগাতে পারি, তবে সেটাই কি আরো কৃতিত্বের নয় ?

সমাজের কি প্রয়োজনে, আপনি এদের লাগাতে পারেন, -_আমার কণ্ঠে যুগপৎ বিদ্ধেপ এবং কৌতৃহল।

আগেই তো বলেছি অনিমেষবাবু, আমাদের সমাজ এবং রাস্তীয় জীবনে এমন অনেক কাজ আছেঃ যা মানুষের থেকেও কোন কোন পশুর স্বাভাবিক প্রবৃত্তিবলে অনেক বেশী দ্রুত এবং নিখু'তভাবে সম্পন্ন হতে পারে ডাক্তার বেশ স্থিরভাবেই আমার প্রশ্নের উত্তরে বলে চললেন, উদ্দাহরণ দিলে ব্যাপারটা! আর একটু পরিস্কার হয় মনে করা যাক, একটা বিশতলা বাড়িতে আগুন লেগেছে আমাদের সদা জাগ্রত দমকলবাহিনী সব শক্তি দিয়েও সে আগুন নেভাবার জন্য নানা প্রক্রিয়! এবং প্রস্ততির মাধ্যমে বে সময় ব্যয় করবেন, তার চেয়ে অনেক কম সময়ে কয়েকজন শিম্পা্ী মানুষ সে কাজ সমাধা করে ফেলবে! কারণ শিম্পান্ীর ন্বাভাবিক শ্রবৃত্তি ক্ষমতাবলে সে

সাধারণ দমকল বাহিনীর সব থেকে দক্ষ কমীরু চেয়েও অনেক ভ্রেত সেই বিশতল। বাড়ির দেয়াল বেয়ে উঠে কিংবা কার্ণিশে ঝুলে গিয়ে আগুন নেভানোর জলের পাইপ যথাস্থানে পৌছে দিতে পারবে কিংবা ধরুন, পুলিশের কোন কমীর বদি কুকুরের শ্রাণ শক্তি থাকে, তবে হত্যাকারীর ফেলে যাওয়! কোন নিদর্শনের সাহায্যে পদ্ধতিগত জটিল কলাকৌশল ছাড়াও অনেক দ্রুত অপরাধীর হদ্দিন করে ফেলতে পারে।

আমি তান্ডব হয়ে শুনেছিলাম ডাঃ জীমৃতবাহনের আজব থিয়োরী

হঠাৎ ডাক্তার চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়ালেন বাগানের দিকের খোলা জানালাটার কাছে ্রাড়িয়ে কিছুক্ষণ চুপকরে থেকে বিষাদকরি স্বরে ধীরে ধীরে বললেন. কিন্তু আমার গবেষণা একটা বিশেষ সমস্তার সামনে এসে থমকে গেছে অনিমেষবাবু এবং একমাত্র এই সমন্া সমাধানের ওপরই নির্ভর করছে আমার গবেষণার সম্পূর্ণ সাফল্য

টি [ প্রস্তাব ]

বেশ কিছুক্ষণ কেউ কোন কথা বলছিলাম না আমার মনে হল, ডাক্তার জীমৃতবাহন এবার একট ভয়ঙ্কর কিছু বলার জন্যে সময় নিচ্ছেন। ঠিক সেই মৃহর্তেই ডাক্তার পিছু ফিরলেন। সরাসরি আমার দিকে তাকিয়ে এগিয়ে এলেন ডাক্তারের চোখের দ্রিকে তাকিয়ে আমি চমকে উঠলাম বৃদ্ধের দৃষ্টি বদলে গেছে__অসহ্য তীব্র সে চাউনি টেবিলের ওপর ত্রকট! হাত রেখে দীড়িয়ে উনি বললেন, জ্যাকি, শিম্পু, হেগি কিংবা উল আমার এক্সপেরিমেন্ট সম্পূর্ণ সফল করতে পারেনি, কেন জানেন অনিমেষবাবু ?

আমি মোহাচ্ছন্ন ভাবে শুধু ঘাড় নাড়লাম।

২১

কারণ একটা বাতিল উন্মাদ মগজের বদলে শিয়াল শিম্পা্জী কিংবা নেকড়ের মগজ যে মানুষটার মাথার মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে একটি পশুর স্বাভাবিক প্রবণতার সবটুকু সে পেলেও প্লানুষের স্বাভাবিক বুদ্ধিটুকু পায়নি। যার ফলে আমি শুধু মাত্র তৈরী করতে পেরেছি মানুষের আকরের একট শিয়াল, শিম্পান্তী কিংবা! নেকড়ে তাকে পোষ মানানো হয়ত যায়__কিস্ত যে উদ্দেশ্যে আমার এই স্থুদীর্ঘ গবেষণা, তা সফল হয় না।

তাহলে কি করতে চান আপনি ?

আমার কথ! শুনে ভাক্তার জীমূতবাহন হাসলেন হাসি সম্পুর্ণ আলাদা গাটা শিরশির করে ওঠে

দেয়ালের ওই কোনে একেবারে শেষ জারটা লক্ষ্য করুন।

ডাক্তারের কথামত সেদিকে তাকিয়ে তেমন বৈশিষ্ট্যপুর্ণ কিছু চোখে পড়ল না।

ডাক্তার বললেন, ওর মধ্যে আছে এক উন্নত জাতের কুকুরের মগজ সেই সঙ্গে কিছু নাযুতন্ত্র।

কি এক আশঙ্কায় আমার শরীরটা হঠাৎ পাক দিতে শুরু করল।

অনেক কাছাকাছি এসে ধাড়িয়েছেন ডাক্তার আমি তার নিশ্বাস অনুভব করছি এবার আমি যা! করতে চাই তা হল, একটা সুস্থবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের মস্তিষ্ক এবং স্নাযুতন্ত্রের সঙ্গে ওই কুকুরের মস্তিক্ষ এবং স্ায়ুতন্ত্ের কিছু গ্রধোজনীয় পঞ্গিবর্তন ঘটিয়ে মানুষটিকে একই সঙ্গে মানসিক বুৰ্ধি বিবেচনা এবং কুকুরের ভ্রানশক্তি সমেত তার কিছু প্রবৃত্তিগত গুণাবলী দান করে তাকে এক বিশেষ ভআাতি ক্ষমতাসম্পন্ন কুকুর-মানব তৈরি করতে

একটু থেমে ভাক্তার জীমুতবাহন আমার ওপর প্রায় ঝুঁকে পড়ে ফিসফিস করে বলল, এব্যাপারে আমি আপনার সাহায্য প্রার্থী

অনিমেষবাবু। ২২

ন্ম্ভ [ফাদ] একটা অস্ফুট আর্তনাদ আমার কণ্ঠ থেকে বেরিয়ে এল: না! ডাক্তার জীমুত বাহনের ভাবভঙ্গি তখন পাণ্টে গেছে উনি হাসছেন। কারোর ন্ুন্দর হাসিটাও যে এত তাড়াতাড়ি এমন নিষ্ঠুর আর বীভৎস হয়ে যেতে পারে, আগে আমার জানা ছিল না। সাঁপৈর মত হিসহিস স্বরে ভাক্তার বললেন, এই জঙগ্তাই তো! আপনাকে এখানে আমন্ত্রণ করে আনা অনিমেষবাবু। বুঝতে পারলাম, নিজের বুদ্ধির দোষে এই উন্মাদ ডাক্তারের মৃত্যু-_ফণাদে পা দিয়ে ফেলেছি চেঁচিয়ে উঠে বললাম, না, আমার ওপর ওই

জঘন্ পরীক্ষা চালাতে আপনি পারেন না

ডাক্তার আবার হেসে উঠলেন কদাকার হাদি হেঁঠেঁহেঁ- অনিমেষবাবু' মানুষের বুদ্ধি আর কুকুরের ॥051101 ছুয়ের অধিকারী হয়ে কী আশ্চধ ক্ষমতার অধিকারী হতে চলেছেন আপনি ভেবে দেখেছেন ? এতদ্দিনে আমার গবেধষণ। হবে সার্থক !..

ছেড়ে দিন আমাকে, ঘেতে দিন প্রায় দৌড়ে ল্যাবরেটরি ঘরের দরুজাও দিকে এগিয়ে গিয়েই থমকে দাড়াতে হল।

নেকডে- মানুষ উল হিংত্র শ্বাপদের দৃষ্টি নিয়ে দরজা পাহাড় দিচ্ছে | বুঝলাম আমাকে ফাদে আটকে রাখার সমস্ত ব্যবস্থাই ভাক্তার আগে থেকে পাক করে “রেখেছিলেন

কিন্ত হতে পারে না! ওই উন্মার্দ বিজ্ঞানীর হাতে কিছুতেই নিজেকে সপে দেবনা আমি আমি অনিমেষ গুপ্ত এককালের ইউনির্ভাসিটি বর. কোমরের পাশ থেকে চকিতে টেনে বার করলাম নিত্যসঙ্গী ভোজালীটা। দরকার হলে আত্মরক্ষার জন্য ডাক্তারকে খুন করেও এখান থেকে পালাতে হবে

কিন্ত ভাক্তারের দিকে দ্বুরে ধ্লাড়িয়েই আবার চমকে উঠলাম ডাক্তার জীমৃতবাহনের হাতে চকচক করছে একটা রিভলবার

১৩

আমি জানতাম, এমন একটা কিছু করার চেষ্ট। আপনি করতে পারেন, তাই সব পরিস্থিতির জন্যেই তৈরি রেখেছি নিজেকে ।__ ডাক্তার জীমৃত বাহনের মুখে সেই সুন্দর হাসিটা আবার ফিরে এসেছে আর বোধ হয় নিজেকে কাচাবার কোন উপায় নেই। হিমাংশুর সাবধানবানী না শোনার জন্তে বারবার অভিশাপ দিতে থাকি নিজেকে

আপনি মিথ্যেই ভয় পাচ্ছেন অনিমেষবাবু !-__ভাক্তার যেন সাস্তনা দেবার ভঙ্গিতেই কথাগুলো! উচ্চারণ করেন__-মাপনি কল্পনাও করতে পারছেন ন। কী অসাধারণ বাড়তি ক্ষমতার অধিকারী হবেন আপনি একাধারে মানুষের বুদ্ধি এবং পশুর ভ্রাণশক্তি-যা আজ পর্যন্ত কোন মানুষ অর্জন করতে পারেনি

আমার চারপাশে বৃত্ত ধীরে ধীরে ছোট হচ্ছে। ডাক্তার জীমৃতবাহন নিজে এবং আশপাশ থেকে জ্যাকি, শিম্পুং হেগি, উলের মত পশু-মাম্ুষেরা জান্তবপদক্ষেপে এগিয়ে আসছে আমার দিকে ঠিক এই সময়েই শোনা গেল। বাইরে থেকে বনুকণ্ঠের উত্তাল চেঁচামেচি আর হিমাংশুর 'চিৎকার-_-অনিমেষ... 'অনিমেষ-*"।

তড়িৎ গতিতে লাফিয়ে লাবক্টোরিব খোলা জানলাটার কাছে গিয়ে দাড়ালেন ডাক্তার। আসাইলামের সামনেন বাগানের গেটটা 'ণ্খান থোক দখা যায়। হাতে হ্যারিকেন, টচ আর মশাল জ্বেলে বাইরের অন্ধকারকে তাড়িয়ে আসাইলামের গেট খুলে ঢুকছে কিছু লোক। তাদের বেশীর ভাগই কুচকুচে কালো স্থানীয় জেলে এবং আদিবাসী ওদের অনেকের হাতেই টাঙ্গি কিংবা লাঠি। দলটার সামনে আমার বন্ধু হিমাংশু

বিশ্বাসঘাতক !- রাতে দাত চেপে উচ্চারণ করলেন ডাক্তার জীমৃতবাহন | শুভ্র স্বশ্রু মণ্ডিত ওই খধিতুল্য মুখট! প্রচণ্ড ক্রোধ

আর হতাশায় ভয়ানক দেখাচ্ছে বিশ্বাঘাতক কে ভাজার? আমি না আপনি? খুব শান্ত ভাবেই কথাটা ছু'ড়ে দ্িই। আর আমার ভয় নেই !

চ্স্ণ [বন্ধুর সহৃপদেশ]

অবশেষে হিমাংশুর জন্যেই রক্ষা পেলাম ঘটনার দিন সকাল থেকেই আমার উল্মন! ভাব দেখে ওর নাকি সন্দেহ হয়েছিল তারপর বিকেল থেকে হোটেলে না দেখতে পেয়ে সন্দেহ আরও তীব্র হয়। হিমাশু আমার ছেলেবেলার বন্ধু। আমার প্রকৃতি ওর ভাল ভাবেই জানা এর ওপর হোটেলের চাকর দিবাকর এসে হিমাংশুকে খবর দেয়, আমায় নাকি ভাক্তার-জীমূতবাহনের আসাইলামের দিকে সে এক! একা! হেঁটে যেতে দেখেছে

শুনে আর দেরী করেনি হিমাশু। দ্রিবাকরের সাহায্যে স্থানীয় কিছু জেলে আর আদিবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আসাইলামে চড়াও হয়ে আমাকে উদ্ধার করে।

হিমাংশুকে সদ্দলবলে দেখে ডাক্তার-জীমৃতবাহন কিন্তু সম্পূর্ণ ভাবে নিজের ভোল পাণ্টে ফেলে ছিলেন খুব ম্বাভাবিক ভাবেই আমাকে নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন হিমাংশুর সামনে ভারপর সাদ! গৌফ -দাড়ির জঙ্গলের ভেতর থেকে সাদ ঝকমকে দাত গুলে প্রকাশ করে মোলায়েম হেসে বলেছিলেন, আপনিই বুঝি হিমাংশুবাবু, অনিমেষ- বাবুর বন্ধু? বেশ, বেশ! অনিমেষ বাবুর আগ্রহ দেখে আমিই ওকে আমার এখানে আমন্ত্রণ করে এনেছিলাম-__-আমার আসা ই- লামট!! ঘুরিয়ে দেখাব বলে। অবশ্য কয়েকটা বদ্ধ পাগল ছাড়া! এখানে দেখবার কিই বা আছে? কিন্তু আপনার! যে মাঝ থেকে এত ব্যস্ত হয়ে পড়বেন, ভাবিনি

২৪

আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে ছিলাম মানুষটার দিকে ওর মুখে আবার সেই ঝকমকে নিস্পাপ হাসি

আমি কিছু বলতে যাবার আগেই হিমাশু আমার হাতটা টেনে ধরেছে এখানে কোন কথা নয়, আগে হোটেলে চ? |

সমস্ত ঘটনাট? নিঃশব্দে শুনে গেল হিমাংশু।

কোন কিছু আমি বাদ দিইনি ডাক্তার-জীমুতবাহনের সঙ্গে আলাপ থেকে শুরু করে তার শেষ আচরণ টুকু পর্যন্ত এক নিশ্বাসে বলে গেছি

সব শুনে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসে রইল হিমাংশু। হোটেলের জানলা দিয়ে গোপালপুরের সমুদ্রতট দেখা যাচ্ছে কালো অন্ধকার আকাশ-মাটি সমুদ্র একাকার করে দিয়েছে। সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হিমাংশু বলল, আমাব কথা যদি শুনিস, তাহলে বলি, সব ব্যপারট। চেপে যা অনিমেষ

কি বলছিস তুই !__হিমাংশুর কথায় বিস্মিত না হয়ে পারি ন!।

কিন্ত হিমাংশু আমায় আর কিছু বলার সুযোগ না! দিয়েই বলল, এঘটন1 অন্য কেউ বিশ্বাস করবে ভেবেছিস? আমি এক বছরেই বুঝেছি, ডাঃ-জীমন্বাহন অসাধারন ধুরন্ধর--নইলে অতসব কাণ্ডের পরেও আমাকে দেখে কি অদ্ভুতভাবে পরিস্থিতির সামাল দিল, দেখলি না? পুলিশের কাছে গিয়ে বলতে গেলে বরং তুইই অপদস্থ হবি |! তারচেয়ে বরং -_

চেপে যাওয়াই ভাল !_হিমাংশুর শেষ কথাট। আমি নিজেই দাতোণতত চেপে উচ্চারণ করি।

কিন্ত আমার এই আশ্চয অভিজ্ঞতাটা ? ডাক্তার-জীমৃতবাহনের সেই বিচিত্র জগত্রে কথা। হোক না অবিশ্বাস্ত, আজগুবি-__তা! কি কোন কাজেই লাগবে না?

অন্তত একটা কল্প-_ বিজ্ঞানের গপ্পও তো ফাঁদা যেতে পারে ?

কেউ বিশ্বাস করুন ছাই নাই করুন !!

্ঙ

শি শু পি শি শু * 5 পু নর ্্ জ্ সপ শপ নি

71011171101 8

ই.

মি

ক্যাচ]

বিশ্রী আওয়াজ তুলে ভেতর থেকে দরজাট। খুলে গেল। সামনে যে ঠাডিয়ে তাকে দেখে প্রথমট। চমকে উঠেছিলাম মানুষের চেহারা এত বীভৎস হতে পারে? ভূত আমি বিশ্বাস করি নাকিন্তু যদি করতাম তাহলে নিশ্চয় এই জনপ্রাণীহীন আধপোড়া বাড়ীটার সামনে ধাড়িয়ে ওকে অন্য কিছু ভাবতে পারতাম না। কাঠির মতো রোগা শরীর, যেন হাডের ওপর একটা পাতলা চামড়া জড়ান, কোটরাগত চোখছুটো৷ মৃত মানুষের মতো ফ্যাকাশে, নীচের ঠৌটটা সামনে ঝুলে পড়া, গায়ের রং কালো, পরনে শুধু একটা আট হাতি কাপড় ছাড়া কিছুই নেই ওই চেহারা! দেখে বয়স কত তাও জানা যায় না। নির্ণিমেষ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে এক হাতে লন, অন্য হাতে দরজার একটা পাল্লা ধরে দাড়িয়ে আছে।

গলাটা ঝেড়ে বললাম_-আজকে রাতের মতো একটু জায়গা হবে? মানে গাড়ীটা পথে খারাপ হয়ে গেছে আশপাশেও তো৷ কোন জনবসতি দেখতে পাচ্ছি না

২৭,

ভেতরে আস্ুন ওর গলার শ্বরও কেমন যেনফ্যাস ফ্যাসে। কিন্ত আমার তখন আর অন্য কিছু ভাবার সময় কোথা ? এই অবস্থায় আমার সব থেকে বেশী যেটা দরকার তা হোল কয়েক ঘণ্টা টানা বিশ্রাম। লোকটার পিছু পিছু ঢুকে পড়লাম বাড়ীর ভিতরে বাড়ীটা যে বহুদিনের পুরানো তা সন্ধ্যের অন্ধকার ঘনিয়ে এলেও বাইরে থেকে বুঝতে অসুবিধে হয়নি এখন গেট পেরুতেই চোখে পড়লে বেশ কিছুটা! জায়গ। জুড়ে একট। বাগান মানে কিছুদিন আগেও হয়তো সুন্দর বাগান ছিল-_এখন সেটা গাছ-গাছালি আর ঝোপঝাড়ের জংল৷ জায়গা বলাই ঠিক। আমি নিঃশব্দে লোকটাকে অনুসরণ করে চলেছি আর লগনটা এক 'হাতে দোলাতে দোলাতে ঠিক যেন হাওয়ায় ভেসে চলেছে লোকট1। শরীরটা ওর অমন হলে কি হবে চালচলন অত্যন্ত ক্ষিপ্র আমার শরীরের ভেতরট! একবার শির শির করে উঠলো

গেট পার হয়ে ভেতরে ঢুকতেই একটা গন্ধ নাকে ভেসে এল তীব্র, বুনো! এক ধরনের গন্ধ। অচেনা কিন্তু কেমন যেন নেশ। ধরা। লোকটার পিছু পিছু বাগান পেরিয়ে সামনের ঘরগুলোর দিকে এগিয়ে চললাম ওখানে বাগানের মধ্যে বেশ কিছুটা জায়গা জুড়ে একটা একতল! বাড়ী। সামনের দিকে পাশাপাশি তুটে৷ ঘর দেখ! যাচ্ছে পেছনে আরও আছে কিনা এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে না

নিজের ওপরই বিরক্তি জাগল! মোটরে দীঘপথ পাড়ি দেবার মতলব করার আগে গাড়ীটা আরও ভালভাবে চেক" করার দরকার ছিল। তাহলে পথের মাঝে এই জনমানবহীন জঙ্গুলে জায়গায় সন্ধ্যের অন্ধকার ঘনিয়ে আসার মুখে অকম্মাৎ টায়ার ফেটে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হোত না। আসলে বহুদিন বাদে হঠাৎ বন্ধুর আমন্ত্রণ পেয়ে দেরী করতে আর তর সয়নি এবং ছুভণগ্য যখন আসে বোধহয় এমনি ভাবেই স্থান-কালের হিসেব থাকে না

সপ

তবে এত সহজে ছুর্ভাগ্যকে মেনে নেওয়া আমার ধাতে নেই নিকটবত্াঁ করিমপুর ছাড়িয়ে প্রায় দশ কিলোমিটার এসে এই জায়গাটায় হঠাৎ যখন গাড়ি বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো, প্রথমট। একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলুম ঠিকই তারপর দূর থেকে এই আধা পোড়ো বাড়িটা আবিষ্কার করতে বেশী বেগ পেতে হয়নি ভেবে দেখেছিলাম খোলা রাস্তায় গাড়িতে বসে হিং জন্তজানোয়ার কিংবা অন্ত কোন অজানা বিপদের সম্মুখিন হওয়ার চেয়ে ওই পোড়ে! বাড়ীতে ঢুকে রাতট কাটিয়ে দেওয়াই কম বিপজ্জনক কিন্তু সত্যি বলতে কি, এমন জনবসতিহীন অঞ্চলে এই পরিত্যক্ত পোড়ে! বাড়ীতে কোন মানুষ বাস করতে পারে এমন ধারণা আমার হয়নি

লোকট! আমায় নিয়ে একটা ঘরের সামনে দীাডাল। দরজা ভেতর থেকে ভেজান। ঠেলা দিতেই খুলে গেল। লগ্ন নিয়ে লোকটা ঘরের ভেতরে ঢুকতেই সার ঘরট! দৃশ্যমান হোল বেশ বডসড় ঘর। বাগানের দিকে ছুটো জানালা পুরানো আমলের একট দেয়াল আলমারী, র)যাক সেগুলোতে বই ঠাসা সেই সঙ্গে আরও কিছু দ্রব্য সামগ্রী, ঘরের জানালার ধার থেঁষে একটা সেকেলে খাট, অন্যধারে টেবিল, খান তিনেক চেয়ার ঘরের আসবাব পত্তর

কিংবা সাজসরগ্জাম যেন ঠিক এই জনমানবহীন অঞ্চলের পোডো বাড়ীর সঙ্গে কেমন বে-মানান |

ঘরের দোর গোড়ায় আমায় থমকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে লোকটা এক ঘেয়ে ফ্যাসফ্যাসে গলায় ডাকলো!-_কই; ভ্ডেতরে আন্মবন

ঘরের ভেতর পা দিলাম, হ্যারিকেনটা টেবিলের ওপর রেখে লোকট। এতক্ষণে আমার দিকে তাকিয়ে হাসল। দাতের পাটিছুটো উচু, এর ওপর চোয়াড়ে ভাঙ। মুখ-_তাই হাসতেই বীভৎসভাবে সমস্ত দাতগুলো! ঠেলে বেরিয়ে পড়লো আমার দৃষ্টিটা সরিয়ে নিলাম

স্ ৪১

হঠাৎ সে বললো-_-এ বাড়ীতে আমি একাই থাকি বাড়ীর কেয়ার টেকার।

আমি তখন. হ্যারিকেনের স্বল্প আলোয় ঘরের মধ্যেটা চোখ বুলোচ্ছিলাম এবার লোকটার চোখে চোখ রাখার চেষ্টা করে বললাম-_-তোমার নাম কি?

_-জগদানন্দ। একই কণম্বরে জবাব এল

আমি ততক্ষণে র্যাক থেকে একটা বই নামিয়ে হ্যাবিকেনের আলোর সামনে নিয়ে এসেছি বইএর মলাটটা উল্টে পাতার দিকে চোখ রেখে বললাম__ডঃ আর, গ্রীনিবাসন কার নাম ?

__কেন বাবুমশাই 1 কথাটা উচ্চারণ করতে গিয়ে কেয়ারটেকার জগদানন্দের কথন্বরট। কেপে গেল না?

_-এই বইতে নাম দেখছি র্যাকের আরও ছ'একট! বইতে দেখলাম।

_-ওঃ* এবার বেশ নিশ্চিত হয়েই সে জবাব দেয়-_-উনিই তো বাড়ীর মালিক নামকরা বৈজ্ঞানিক

_্্যা, নামটা যেন কোথায় দেখেছি | ডঃ আর শ্রীনিবাসন | সংবাদপত্রে কি? তা উনি গেলেন কোথায়- প্রশ্ন করি

_যাবার সময় বললেন কোথায় যেন মিটিং যেতে হবে তা! প্রায় মাসখানেক আগে। তাবুপর আর ফেরেননি। জগদানন্দ বেশ সহজ ভাবেই জবাব দেয়

হতেও পারে। ভাবলাম আমি। ডাক্তার, বিজ্ঞানীদের কনফারেন্স কিংবা মিটিং যোগদান করা আশ্চর্য তো! কিছু নয়৷ ভাবনাটাকে ঘোরাবার চেষ্টাকরি। জায়গাটা এত নোংরা কেন? দেখে মনে হয় বাড়ীতে যেন কতকাল মানুষের পা পড়েনি এমনকি, ঘরের মধ্যেও এখানে সেখানে ধুলোর পলেস্তারা পড়ে আছে সবটাই ভৌতিক নয় তো?

জিজ্েস করতে যাচ্ছি, এমন সময় জগদানন্দ বললো---

২)৩

আজ রাতটা ঘরেই কাটিয়ে দিতে পারেন। জয় করবে নাতো? '

_ভয়! কেন? আমি জগদানন্দের মুখের দিকে তাকাই।

-মানে অচেনা জায়গা......আমি অবশ্য থাকবো পাশের ঘরেই

- আচ্ছা জগদানন্দ__1? ওর কথা শেষ হবার আগেই আমি বলি।

_ বলুন

__-এই বাড়ীতে সত্যিই তুমি একা থাক? সম্পুণ একা ?

_হ্্যা, থাকি একাই-..তবে কিনা...কি যেন বলতে গিয়েও থমকে যায় জগদানন্দ।

_তবে কিনা. "'কি 1? বল? ওর চোখে চোখ রেখে আমি জেবা করার চেষ্টী করি। লোকট। কে প্রথম থেকেই আমার কেমন যেন বেখাপ্পা, রহস্যজনক মনে হয়েছে

--আপনি বন্থন, আমি বরং আপনার জগ্চে খাবার বন্দোবস্থ করি... জগদানন্দ বোধহয় আমার প্রশ্রটাকে চাপা! দিতেই ব্যস্ত হয়ে পড়লো

_-নী, না, কোন দরকার নেই-_আমি বাধা দিউ-সঙ্গে আমার টিফিন কেরিয়ারে টোষ্ট, ডিম, মিষ্টি যথেষ্টরই আছে গাড়ীতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেবার কথা ভেবেই নিয়ে এসছিলুম তুমি বরং আমার ছু'একট। কথার জবাব দাও

- আপনার সব কথার জবাব দেব, বাবু কিন্তু আজ রাতে আপনি আমার অতিথি, কিছু তে। খাওয়াতেই হবে আপনি একটু বস্তন, আমি বরং এক গ্লাস সরব করে আনি

_-সরবৎ ! এত রাত্রে আমি অবাক হই

_হ্ট্যা সরবত জগদানন্দ একটু থেমে ফ্যাসফ্যাসে গলায় বললো! ডঃ শ্রীনিবাসনের নিজন্ব ফরমূলায় তৈরী দারুণ স্থত্যাহু। ভয় নেই,

৩১

বিষ খাওয়াব না বলতে বলতে প্রায় ক্ষিপ্রপদেই ঘর থেকে বেরিয়ে গেল দে।

লোকট। ভারি অন্ভুত তো! হঠাৎ সরবৎ খাওয়াবার জন্ে এত জেদাজেদি করছে কেন? নান রকম চিন্তা মাথায় আলে সরৰত্রে নামে বিষ খাওয়ানই কি ওর আসল উদ্দেশ্য ? কিন্তু এজন্যে সর তর প্রয়োজন কি? আমি একা, সম্পূর্ণ অসহায় এই আধপোড়ো বাড়ীটাতে ওর হাতের মুঠোর মধ্যেও তো যে কোন উপায়েই আমায় খুন করতে পারে। হঠাৎ মনে হোল জগদানন্দকে এত খারাপ মানুষই বা ভাবছি কেন? চেহাবাটা সকলেরই কন্দর্পকাস্তি

হয় না-তার! সবাই কি চোর, ডাকাত, বদমাস বরং এমনও তো হতে পারে আসলে সত্যিই ভাল, অতিথি বংসল। জঙ্গলে একা বাড়ী পাহারা দেয় হঠাৎ একজন জঙ্গী পেয়ে খুশী হয়েছে তাই যে কোন ভাবে অতিথি সংকার করতে চাইছে এখন সরবং আনতে গেছে ডঃশ্রীনিবাসনের নিজস্ব কোন ফরমুলায় বানান"' চিন্তা করতেই হঠাৎ মনে পড়লো ডঃ আর শ্রীনিবাসনের কথা বিখ্যাত উদ্ভিদ-বিজ্দ্বানী |

তাহলে কি এই জঙ্গুলে জায়গায় এই পোড়ো বাড়ীটাই তার--গবেষনাগার ? উদ্ভিদ বিজ্ঞানী বনে জঙ্গলে নিভৃতে গাছগাছড়। নিয়ে পরীক্ষ! নিরীক্ষা চালাবেন_-এতে আর আশ্ষধ কি !

ভাবতেই সমস্ত ব্যাপারট। অনেকটা! সহজ হয়ে গেল; হঠাৎ যেন বেশ কিছুটা স্বস্তি অনুভব করি

জগদানন্দ ঘরে ঢুকলে! হাতে একঢ। ঢাউস কাচের গ্লাসে ভত্তি সবুজ রঙের সরব আর একটা প্লেটে কিছু কুচো ফল পাকড়।

_-এই সরবং যেমন স্বাস্থ্যকর, তেমনি স্থত্বাহু একবার খেলে আর এক গ্লাপ খেতে ইচ্ছে করবে জগদানন্দ বিশ্রীভাবে ওর দাতের পাটিছটো! বার করে নিঃশবে হাসলো!

৩২

_কিন্তু সঙ্গে আবার ফলের কুচি কেন?

_এএঁই বন বাদারে আপনাকে আর কি খাওয়াতে পারি বলুন জগদানন্দ ফ্যাসফ্যাসে গলায় বিনয়ী হতে চাইলে!

একটু আগে বদিও অনেককিছু ভেবেছি' এমনকি-জগদানন্দ লোকটা ভাল হতে পারে এমন সার্টিফিকেটও মনে মনে দিয়ে দিয়েছি, তবু সরব হতে নিয়ে মনটা যেন কেমন করে উঠলো ওর মুখের দিকে তাকালাম ভাবলেশহীন। সত্যিই কোন মতলব নেই তো লোকটার? হঠাৎ মাথায় বুদ্ধির একট চমক থেলে গেল। জগদানন্দকে বললাম-_-ফল আমার দরকার নেই, বরং এস সরবংট! হুজনে ভাগ করে খাই। তুমি ওই প্লেটে কিছুটা ঢেলে খেয়ে নাও। এত ভাল স্বাদ যখন তুমিই-বা বাদ বাবে কেন ?

নিঃশব্দে হাসলো জগদানন্দ ওকি আমার চালাকি টের পেয়েছে ? কিছু না বলে গ্লাস থেকে প্লেটে বিছুটা সরব ঢেলে এক চুমুকে পান করলো তারপর প্লেটটা ঠক করে টেবিলের ওপর রেখে বললো--এবার তো থাবু মশায়ের আপত্তি হবে না?

ভীষণ ললন্ভায় পড়লাম! এভাবে ঠকে যাব ভাবিনি এবার আর দ্বিধা না করে গ্লাসের অবশিষ্ট সমস্ত সরবৎটাই এক নিঃশ্বাসে পান করলাম।

সত্যিই অপূর ম্বাদ। এত মিষ্টি অথচ চমতকার আমেজধরা সরবত জীবনে কখনও পান করিনি আমি তবে বাড়ীতে ঢুকতেই যে বুনো নেশা ধরা গন্ধটা নাকে লেগেছিল এই সরবতে সেটা আরও তীব্রভাবে পেলাম। কিছুক্ষণ সময় কেটে গেল! মাথার মধ্যেট1 কেমন যেন একটা হালকা ঝিমুনি বোধ করছি অনেকটা! দুর্গাপুজোর বিজয়াব রাতে সিছ্ধর নেশার মতো-কিংবা তাও নয়। অন্য ধরণের ঠিক ভাবতে পারছি না--তবে কি সরবত্রে মধ্যে মাদক জাতীয় কিছু মেশান ছিল?

জগদানন্দ আমার দিকে তার বিশ্রী ক্ষয়া দাতের পংক্িগুলো।

৩৩

বার করে তাকিয়ে ছিল। বনলো--আপনি কি যেন আমায় জিজ্জেস করবেন বলছিলেন

লোকট1 কি আমার অবস্থা বুঝতে পারছে না? নাকি জেনে বুঝেই পরীক্ষা করতে চাইছে তার সরবত্রে প্রতিক্রিয়া আমার ওপর কেমন হলো সেটা পরখ করতে |এদিকে ঝিমুনিটা আমার ক্রমেই বাডছে-কিস্তু সেই সঙ্গে সরবত্রে মিষ্টি শ্বাদটাও জিভে জড়িয়ে আছে মনে হচ্ছে আর এক গ্লাস চেয়ে খাই

বুঝতে পারঙগাম একট! নেশাড়ে লোকের মতই নিজের ওপর ক্রমেই আস্থা! হারাতে শুরু করেছি একটা ঘুম ঘুম ভাব ছুচোখের পাতায় ভর করেছে আমি নিশ্চিন্ত--এসবই সেই সরবতের ক্রিয়া কিন্তু এভাবে আমাকে নেশাচ্ছন্ন করে ওর লাভ কি? প্রাণে না মরে সর্শ্য অপহরণ ? কিন্তু কাল সকালে যখন আমার নেশা কেটে যাবে_-তখন ওকে বাচাবে কে? নাঃ কিছু চিন্তা করতে পারছি না

হঠাৎ বড্ড গরম হতে শুরু করছে কুলকুল করে ঘামছি। ঘরের ছুটে! জানালা একটা খোল। অন্/ যেট1 বাগানের দিকে _বন্ধ। সেদিকে এগিয়ে গেলাম জানলাটাটেনে খুলতে যাব হঠাৎ জগদানন্দ লাফিয়ে আমার কাছে এসে দরাড়াল-__বাবুমশাই, ওই জানলাট। খোলা যায় না বাইরে থেকে বন্ধ

__কিন্ত কেন? আমার গরম হচ্ছে। ওদিকে তো বাগান জানলাট! খুলতে অন্থবিধে কি? আমাব কণ্ঠের বিম্ময় চাপা থাকে না

_সব অস্থুবিধে সবাইকে বল! যায় না বাবুমশাই-_-বিশেষত? সে যদ্দি বাড়ীর রাতের অতিথি হয়--

চমকে তাকিয়ে দেখলাম জগদ্ানন্দের চোখের ভাষা কেমন যেন বদলাতে শুরু করেছে। অল্প আলোতে দীপ্ত হয়ে উঠেছে ওর চোখের দৃষ্টি

&

আমি আর কিছু ভাবতে পারছি না। মাথার মধ্যেটা! ধীরে ধীরে অবশ হয়ে আসছে জগদানন্দ কি সেই আশবাতেই বসে আছে--যেমন ভাবে মাকড়সা বসে থাকে জ্ালের-_-মধাখানে জালে পড়া পত্ঙ্গটার দিকে নির্ণিমেষ দষ্টিতে তাকিয়ে কখন সে একেবারে অবশ হয়ে পড়বে সেই আশায় নাঃ, হতে পারে না আমি নিখিলেশ সেন 1 এ্রখনও রীতিমত দেহচচা করি কোমরের কটিতে এই মুহৃতেও লুকোনে। আছে আমার প্রিয় ধারাল ভোজালিটা। এত সহজে হার আমি মানব না। কিন্তু আপাততঃ কি করতে পারি আমি ?

দ্রুত সিদ্ধাস্ত নিলাম এই ফাদ থেকে রক্ষা পাবার একমাত্র উপায় এই ঘরের দরজা বন্ধ করে বাতট। কোনরকমে কাটিয়ে দেওয়। একবা সকাল হয়ে গলে ওর কান মতলবই আর খাটবে না বিশ্বাসটুকু মামার আছে

একটা হাই তুলে বললাম-_ জগদানন্দ্র, তোমার আর এখন ঘরে থাকার প্রয়োজন নেই বজ্র দ্বুম পাচ্ছে আমি আর বসে পারছি না।

জগদানন্দ 1ক খুশী হলো আমার কথা শুনে? বোঝাগেল না, কিন্তু উত্তরে কিছু ন! বলে ঘরু ছেড়ে বেরিয়ে গেল

ঘর ছেড়ে চলে যেতেই হ্যারিকেনের আলোটা আর একটু উসকে দিয়ে সার! ঘরটা আর একবার ভাল করে দেখে নিলাম বেশ কিছুর্দিন অব্যবহ্ধত একজন বে-হিসেবী, গ্জানী লোকের ঘর যেমন ভাবে থাকা উচিত তেমনিই আছে সবকিছু সন্দেহ জনক বিশেষ কিছুই চোখে পড়লো না _কেবল মাত্র বাগানের দিকের ওই বন্ধ জানলাটা ছাড়া কয়েকবার চেষ্টা করেও জানলাটা খোলা গেল না। বাইরে থেকে শক্ত ভাবে আটা মনে পড়লো-_-একটু আগে জানলা খোলার ব্যাপারে জগদানন্দের ঘোরতর আপন্ভির কথা! অথচ কারণট। কি সে বলেনি

রহস্ত্ের জট ক্রমেই পাকিয়ে যাচ্ছে

দুরে কোথা থেকে একটা ক্ষীন “হুম” “হুম” শব্দ ভেসে এল

কোথাও যেন কেউ প্রচগ্রভাবে দরজা! ধাক্কা দিচ্ছে শবটা এখানে আসার পর আরও কয়েকবার শুনেছি__কিন্তু নান। চিন্তার মধ্যে খেয়াল করিনি কান পাতলাম। শব্দটা আর শোনাধাচ্ছে না। একটু বাদে আবার শোন? গেল।

বেশ কিছুক্ষণ ভাববার চেষ্টা করেও ওট! কিসের আওয়াজ বুঝতে পারলাম না। শেষে মনকে বোঝালাম, বাড়ীর অনেকগুলো রহস্তের মধ্যে ওঠাও একটা পরদিন সকাল না হলে টের পাওয়া যাবে না।

কিন্তু চোখ ছুটে! যে আমার জুড়ে আসছে সকালের অপেক্ষায় জেগে বসে থাকা আমার পক্ষে আদপেই সম্ভব নয়। সারা দিনের ক্লান্তি, তার ওপর সরধত্রে নেশা_মামার জেগে থাকার শেষ শক্তিটুকু যেন শুষে নিচ্ছে। শুয়ে ঘুমিয়ে পড়া ছাড়া আর কিছু এখন আমার পক্ষে সম্ভব নয়

খাটটা সেই বন্ধ জানলাটার ধারেই একটু ইতস্তত: করেও মন থেকে মাশঙ্কা ঝেড়ে ফেলে খাটে উঠে শুয়ে পড়লাম হ্যারিকেনটা টেবিলের ওপর জ্বালাই রইলে।। শোয়ার প্রায় সঙ্গে